November 1, 2026, 3:23 pm
SCROLL:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামায়াতের আমিরকে ঘিরে জমি ও কোটি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ। জমির মালিকানা, তিতাস টাওয়ারের আর্থিক লেনদেন ও নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বিএলআরআইয়ের পিডি সাজেদুলকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, মিরপুর থানায় জিডি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে ঘিরে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, বাড়ছে উদ্বেগ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৬৮ যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান রতের অন্ধ্রপ্রদেশে ঘূর্ণিঝড়, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রথম সংবাদ: উত্তর কোরিয়ার ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কাঁঠালিয়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে মামলা দেওয়ার হুমকি! পিআইও জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমির মালিকের অভিযোগ, পৌরসভার মাপজোখ বন্ধ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক

মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই মাদক কারবারিদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাদক ব্যবসার বিস্তার, গ্রেপ্তার ও মামলার পরও সক্রিয় থাকার অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সময়ের অনুসন্ধান | পর্ব–৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মাদক নির্মূলের দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে যদি মাদক কারবারিদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আপস করা, অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া কিংবা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে, তবে তা নিছক প্রশাসনিক অনিয়মের প্রশ্ন নয়—এটি জনস্বার্থ ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মাদক ব্যবসা, সীমান্তপথে চোরাচালান এবং মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে এমনই একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হওয়া কিছু ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে আবারও মাদক কারবারে সক্রিয় হয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং অভিযানের পর কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নথিভিত্তিক তদন্ত জরুরি।

মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও কি থামছে না মাদক কারবার?

স্থানীয়ভাবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজয়নগর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল মিয়া, মো. মানিক মিয়া, সেলিম মিয়া, আলা আমিন সেতু, আনিসুর রহমান, খালেদ মিয়া এবং রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম।

তবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কোন থানায়, কোন তারিখে, কী অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং মামলার বর্তমান অবস্থা কী—তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অতীতের গ্রেপ্তার বা মামলা থাকলেই কেউ বর্তমানে মাদক ব্যবসা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় । আবার মামলা চলমান থাকলে তার অগ্রগতি ও আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনস্বার্থে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, কোনো কোনো ব্যক্তি আগে গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তী সময়ে আবার এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশের মামলা রেজিস্টার, গ্রেপ্তারসংক্রান্ত নথি, আদালতের আদেশ এবং জব্দ তালিকা পর্যালোচনা করা দরকার।

অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ—তদন্ত কোথায়?

মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া কিংবা প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় সূত্র। তাঁদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

তবে কোন তারিখে, কোথায়, কার মাধ্যমে এবং কী পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে—এসব সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যকে দায়ী করা যায় সংশ্লিষ্ট। অভিযোগের পক্ষে নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ থাকলে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।

অভিযানের তথ্য আগেই পৌঁছে যায় কার কাছে?

আরেকটি অভিযোগ হলো, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার আগাম তথ্য সংশ্লিষ্ট কারবারিদের কাছে পৌঁছে যায়। এতে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা সতর্ক হওয়ার সুযোগ পান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে কি না, ঘটলে কারা জড়িত এবং কোনো আর্থিক লেনদেন এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না—তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। মাদকবিরোধী অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষা, অভিযোগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জবাবদিহি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের সঙ্গে নির্দিষ্ট কর্মকর্তা, ঘটনা ও প্রমাণের সংযোগ ।

অধিদপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া প্রয়োজন—বিজয়নগরে মাদকবিরোধী অভিযানের সংখ্যা কত, কতজনকে আটক করা হয়েছে, কতটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং পুনরায় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে সীমান্তপথে মাদক পাচার প্রতিরোধ, যৌথ অভিযান এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য চাওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনের কাছে জনস্বার্থে কয়েকটি প্রশ্ন

১. বিজয়নগরে মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী?

২. অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি?

৩. গ্রেপ্তারের পর পুনরায় মাদক কারবারে জড়িত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

৪. অভিযানের তথ্য ফাঁস ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে কি?

৫. মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

মাদকবিরোধী অভিযান হোক কার্যকর, জবাবদিহি হোক নিশ্চিত

মাদক ব্যবসা বন্ধে শুধু গ্রেপ্তার দেখানো বা বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মামলার কার্যকর তদন্ত, আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ, মাদকের উৎস শনাক্ত এবং অপরাধে জড়িত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনগত পদক্ষেপ।

দৈনিক সময়ের কণ্ঠ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছে—বিজয়নগরে মাদক ব্যবসা ও অর্থের বিনিময়ে অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে পর্যায়েরই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বক্তব্যও প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হবে।

মাদককে না বলুন—যুবসমাজকে বাঁচান।

অনুসন্ধান চলমান। মামলা, গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী পর্বে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


FACEBOOK