সম্পাদকের ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলার অভিযোগ, প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের দাবি—মানববন্ধনের প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক |
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিক ইমরান মুন্সীকে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের সম্পাদক বিষয়টি জানার পর নিজেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেনকে ফোন করে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। সম্পাদকীয় সূত্রে জানা যায়, ফোনে কথা বলার সময় কর্মকর্তা উচ্চস্বরে কথা বলেন। একজন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
বাজেটের তথ্য চাওয়ায় মামলার হুমকির অভিযোগ
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, সাংবাদিক ইমরান মুন্সী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তাঁকে ডেকে নিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে রাজাপুর–কাঁঠালিয়া এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মিতুর নাম উল্লেখ করে ভয় দেখানোর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি কাঁঠালিয়া থানার ওসি নাছের রায়হানের মাধ্যমে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
তথ্য চাওয়ার কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়ে থাকলে তা উদ্বেগজনক। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয়, কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের তথ্য জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক দায়িত্বের অংশ।
পছন্দের সাংবাদিক, নাকি জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতা?
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেনের আশপাশে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং তাঁদের ওপর নির্ভর করে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে সাংবাদিকদের মধ্যে কে কার ঘনিষ্ঠ, সেটি নয়—কে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করছেন, সেটিই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও প্রমাণ ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের ভিত্তিতেই বিবেচনা করা জরুরি।
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি
জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বরাদ্দপত্র, ব্যয়ের হিসাব, কাজের পরিমাপ, বাস্তবায়নের নথি এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।
কোনো অভিযোগকে তদন্তের আগেই প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তবে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব দেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
মানববন্ধনের প্রস্তুতি
সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে এনে জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। মানববন্ধন থেকে সরকারি প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হতে পারে।
সম্পাদকীয় অবস্থান: প্রশ্নের জবাব দিন, হুমকি নয়
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের সম্পাদক অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি ফোন করে জানতে চাওয়ার পর উচ্চস্বরে কথা বলার যে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তা ঘটনাটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত ও পেশাদার আচরণ প্রত্যাশিত।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ মনে করে, সাংবাদিকের কাজ কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা নয়; বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা। একইভাবে, সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সহযোগিতা করাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বের অংশ।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে দাবি: সাংবাদিক ইমরান মুন্সীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, কাঁঠালিয়া উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য যাচাই করতে হবে এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্রষ্টব্য: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।