নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ থেকে
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের মালিকানা, সম্পদ অর্জনের উৎস এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. বেলায়েত হোসেন মিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন ওই সাংবাদিক।
সম্পদের উৎস নিয়ে লিখিত অভিযোগ
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর দাখিল করা একটি লিখিত অভিযোগে মো. আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিভিন্ন সম্পদের তথ্য তুলে ধরে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট, গাজীপুরে বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ একাধিক সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, চাকরিজীবনের শুরুর দিকের আয়ের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে অর্জিত সম্পদের তুলনা করে এসব সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত সম্পদের মালিকানা, মূল্য ও অর্থের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
দুদকে অভিযোগ জমার দাবি
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগের পর কী ধরনের তদন্ত হয়েছে, তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী কিংবা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাংবাদিকের জিডিতে ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিবরণ
সাংবাদিক মো. বেলায়েত হোসেনের করা জিডির আবেদনে উল্লেখ রয়েছে, তিনি ‘দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ’-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি উত্তরায় সংশ্লিষ্ট বাসায় যান। তথ্য সংগ্রহ শেষে আনুমানিক বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে নিজের ও পরিবারের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সাংবাদিক। তাঁর সরবরাহ করা নথিতে জিডি-সংক্রান্ত তথ্য ও স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে সাধারণ ডায়েরি দায়ের হওয়া মানেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।
সম্পদ ও ভবনের ছবি-নথি নিয়ে অনুসন্ধান
সাংবাদিকের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, তাঁর হাতে সম্পদসংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ, জিডির আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের কিছু ছবি রয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে সম্পদের মালিকানা, অর্জনের সময়কাল, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও জরুরি
জনস্বার্থে কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই করাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ মনে করে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আর অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি—
১. মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।
২. ২০২০ সালে দুদকে অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি ও তার তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করা হোক।
৩. সাংবাদিক মো. বেলায়েত হোসেনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৪. সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
অনুসন্ধান চলমান।