নিজস্ব প্রতিবেদক |
একসময় ছাত্ররাজনীতির কর্মসূচিতে গিয়ে সিঙ্গারা-কোক খেয়ে নাশতা সারতেন, কখনো কাঙালি ভোজে অংশ নিয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতেন—নুরুল হক নুরের অতীত জীবন নিয়ে এমন বর্ণনা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। আর আজ তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
সময়ের পরিবর্তনে একজন রাজনৈতিক কর্মীর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসা স্বাভাবিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছ, কতটা জবাবদিহিমূলক এবং বিদেশগামী শ্রমিকদের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে?
প্রবাসী কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের আশায় পাড়ি জমান। তাঁদের অনেকেই জমিজমা বিক্রি, ঋণ কিংবা পরিবারের সঞ্চয় খরচ করে বিদেশে যান। এই শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সরকার, অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগ উঠছে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে কোনো একক কর্তৃত্ব বা বিশেষ প্রভাব তৈরি হচ্ছে কি না। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নথি, চুক্তি, আর্থিক লেনদেন কিংবা ভুক্তভোগীর বক্তব্য ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ বা মানবপাচারের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা বলা যায় না।
অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান
নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্ররাজনীতি, গণআন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের অধ্যায় রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অতীতের ভিত্তিতে অপরাধের সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।
বরং জনগণের প্রশ্ন হওয়া উচিত—বর্তমান দায়িত্ব পালনে তিনি কতটা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছেন? বিদেশগামী শ্রমিকদের খরচ কমাতে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? দালালচক্রের বিরুদ্ধে কতটি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? অভিযোগকারীরা কতটা প্রতিকার পাচ্ছেন?
জনগণের প্রশ্নের জবাব কে দেবে?
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের জায়গা নয়। এটি লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের স্বপ্ন, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
তাই মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি নিয়োগ, বিদেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি, এজেন্সির অনুমোদন এবং আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
নুরুল হক নুরের কাছে জনগণের প্রশ্ন—বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা কী? মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও ফলাফল জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে কি?