মোবাইলে ৪০টি টিকিটে ৮৩টি আসনের তথ্য, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্টে অর্থদণ্ডও
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. রিপন মিয়া ওরফে কালু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত মোবাইল কোর্টে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিলেট রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল টিকিট কালোবাজারি ও জাল টিকিটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো।
অভিযান চলাকালে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে রিপন মিয়াকে আটক করা হয়। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ট্রেনের ৮৩টি আসনের বিপরীতে ৪০টি টিকিট পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তি মো. রিপন মিয়া ওরফে কালু মিয়া (৩৫), পিতা—হারুন মিয়া। তাঁর বাড়ি উত্তর মৌড়াইল, থানা ও জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
যাত্রীদের স্বার্থে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি
রেলপথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের জন্য ট্রেনের টিকিট সহজলভ্য রাখা অত্যন্ত জরুরি। টিকিট কালোবাজারি ও জালিয়াতির কারণে যাত্রীরা যাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও আইনানুগ অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তবে এ ঘটনায় জাল টিকিটের সংশ্লিষ্টতা, টিকিটগুলো কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ যাত্রীসেবার স্বার্থে রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রির স্বচ্ছতা, কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখবে।