November 2, 2026, 4:09 pm
SCROLL:
অভাবের দিন থেকে ডলার-ইউরোর আলোচনা, প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নুরুল হক নুর: প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মানহীন ঔষধ বাজারে রেখে রহস্যজনক নীরবতা ঔষধ প্রশাসনের আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের দুর্নীতির জালে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য পাঁচ মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বাড়ছে চাপ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অচল সড়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামায়াতের আমিরকে ঘিরে জমি ও কোটি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ। জমির মালিকানা, তিতাস টাওয়ারের আর্থিক লেনদেন ও নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বিএলআরআইয়ের পিডি সাজেদুলকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, মিরপুর থানায় জিডি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে ঘিরে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, বাড়ছে উদ্বেগ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৬৮ যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান

সুদানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে খরা ও যুদ্ধ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত, খাদ্যসংকটে লাখো মানুষ; নতুন করে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা

SKN আন্তর্জাতিক ডেস্ক | SKN Television

আফ্রিকার দেশ সুদানে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, গবাদিপশুর খাদ্যসংকট বাড়ছে এবং লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশটির বিভিন্ন সংঘাতকবলিত এলাকায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ-সমর্থিত আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা।

রয়টার্সের ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুদানের প্রধান বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিজমি, খাদ্য সরবরাহ এবং পশুপালন খাতে। ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ও খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে চলতি বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিকভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

দেশটির উত্তর দারফুরে ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর কর্দোফানে বৃষ্টিপাত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একইভাবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গেদারেফ রাজ্যেও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এসব অঞ্চলে বৃষ্টিনির্ভর কৃষির ওপর বহু মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, অনেক জমিতে উৎপাদনের সম্ভাবনা কমে গেছে এবং গবাদিপশুর জন্য পর্যাপ্ত ঘাস ও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমের ফসল আগের বছরের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। ফলে বাজারে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়া এবং খাদ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে বাড়ছে সংকট

আবহাওয়ার প্রাকৃতিক ঘটনা এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও খরা সুদানের খাদ্যসংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। দেশটির প্রায় অর্ধেক এলাকায় খরার প্রভাব পড়েছে বলে জাতিসংঘ-সমর্থিত খাদ্যনিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা Integrated Food Security Phase Classification (IPC) জানিয়েছে।

১২ অক্টোবর প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি বলেছে, বৃহত্তর দারফুর ও বৃহত্তর কর্দোফানের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং খরা একসঙ্গে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

IPC-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, খরার কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়া, খাদ্য মজুত হ্রাস, বাজারে সরবরাহের সমস্যা এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে অপুষ্টি ও মৃত্যুঝুঁকিও বাড়তে পারে।

পাঁচ কোটির নয়, ৫১ লাখ মানুষের তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকি

IPC-এর জুন মাসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সুদানে প্রায় ৫১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ছিলেন। তবে এই সংখ্যা পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কত মানুষ নতুন করে সংকটে পড়েছেন, তা নির্ধারণে হালনাগাদ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, খরার কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ আরও ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ২০২৭ সালের আগস্ট নাগাদ এই অতিরিক্ত সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে।

এগুলো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস, নিশ্চিতভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার হিসাব নয়। তবে খরা, যুদ্ধ ও মানবিক সহায়তার ঘাটতি একসঙ্গে চলতে থাকলে খাদ্যসংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়েছে কৃষি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা

সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) মধ্যে সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে বহু কৃষক তাঁদের জমি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক এলাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হয়েছে, বাজার ও পরিবহনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খাদ্য সরবরাহের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এখন খরার কারণে যেসব কৃষক জমিতে ফিরছেন, তাঁরাও ফসল উৎপাদনে নতুন সমস্যার মুখে পড়ছেন। উত্তর কর্দোফানের কয়েকজন কৃষক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপমাত্রায় তাঁদের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। গবাদিপশুর বাজারেও পশুর দুর্বলতা ও চারণভূমির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

ফলে সংকটটি শুধু খাদ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের আয়, বাজারে খাদ্যের দাম এবং পরিবারের খাদ্য কেনার সামর্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

সুদানে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় কাজ করছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা। তবে অর্থের ঘাটতি এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিরাপদে সহায়তা পৌঁছানোর বাধা তাদের কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সুদানে WFP-এর কার্যক্রমের জন্য ২৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন ছিল। খরার কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত খাদ্যসংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির আরও ১৩৪ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় খাদ্যসহায়তার পরিমাণ কমাতে হয়েছে। দারফুরের তাওইলা বাস্তুচ্যুত শিবিরে প্রায় সাত লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে খাদ্যসহায়তার রেশন অর্ধেক করে দেওয়ার কথা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে নতুন নতুন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শিবিরগুলোতে আসছেন। ফলে সীমিত খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ওপর চাপ বাড়ছে।

দারফুর ও কর্দোফানে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা

IPC-এর সতর্কবার্তায় বৃহত্তর দারফুর ও বৃহত্তর কর্দোফানের কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ উদ্বেগের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, খরা এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তার অভাব একসঙ্গে সংকটকে তীব্র করছে।

উত্তর দারফুরে কৃষিজমির একটি বড় অংশে উদ্ভিদের বৃদ্ধি দুর্বল হয়েছে। দক্ষিণ দারফুর এবং কর্দোফানের বিভিন্ন এলাকায়ও ফসলের অবস্থা উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো এলাকায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা এক বিষয় নয়। খাদ্যের প্রাপ্যতা, অপুষ্টির মাত্রা এবং মৃত্যুহারের মতো একাধিক সূচক বিশ্লেষণ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান

জাতিসংঘ-সমর্থিত সংস্থাগুলো সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর নিরাপদ সুযোগ এবং জরুরি তহবিল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কৃষকদের সহায়তা, বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ, পানির উৎস সংরক্ষণ এবং গবাদিপশুর জন্য খাদ্য নিশ্চিত করাও পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত পরিবার, শিশু ও অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা বাড়ানো প্রয়োজন।

মানবিক সহায়তা বাধাহীনভাবে পৌঁছানো সম্ভব না হলে এবং কৃষি উৎপাদন আরও কমে গেলে আগামী মাসগুলোতে খাদ্যসংকটের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

SKN আন্তর্জাতিক ডেস্কের পর্যবেক্ষণ

সুদানের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সঙ্গে জলবায়ুগত সংকট যুক্ত হলে খাদ্যনিরাপত্তা কত দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। খরা কৃষি উৎপাদন কমাচ্ছে, আর যুদ্ধ মানুষের জমি, জীবিকা ও খাদ্য কেনার সামর্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সঙ্গে মানবিক সহায়তার ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা আরও গুরুতর হচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সংঘাত বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা, কৃষি পুনরুদ্ধার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগই লাখো মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশনা: SKN Television
স্লোগান: সত্য কথায় অঙ্গীকারবদ্ধ আমরা
ওয়েবসাইট: SKNTV.News


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


FACEBOOK