November 2, 2026, 2:14 pm
SCROLL:
অভাবের দিন থেকে ডলার-ইউরোর আলোচনা, প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নুরুল হক নুর: প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মানহীন ঔষধ বাজারে রেখে রহস্যজনক নীরবতা ঔষধ প্রশাসনের আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের দুর্নীতির জালে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য পাঁচ মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বাড়ছে চাপ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অচল সড়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামায়াতের আমিরকে ঘিরে জমি ও কোটি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ। জমির মালিকানা, তিতাস টাওয়ারের আর্থিক লেনদেন ও নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বিএলআরআইয়ের পিডি সাজেদুলকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, মিরপুর থানায় জিডি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে ঘিরে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, বাড়ছে উদ্বেগ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৬৮ যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আমিরাতের কূটনীতিক, উঠছে নানা প্রশ্ন সুদানের সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথিত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতা ঘিরে আন্তর্জাতিক নজর

SKN আন্তর্জাতিক ডেস্ক | SKN Television

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রার্থী হয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লানা জাকি নুসেইবেহ। ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর তাঁর প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতির কারণে তিনি আলোচনায় এলেও সুদানের গৃহযুদ্ধে আমিরাতের কথিত ভূমিকা নিয়ে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতের মনোনীত এই প্রার্থী জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিবর্তন, কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যকারিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তাঁর দেশের পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিতর্কিত বিষয়ও মহাসচিব নির্বাচনের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

কে এই লানা নুসেইবেহ?

লানা নুসেইবেহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক। তিনি ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে আমিরাতের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সহসভাপতি এবং জাতিসংঘের নারী সংস্থা UN Women-এর নির্বাহী বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

২০২২–২০২৩ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আমিরাতের নির্বাচিত সদস্যপদের সময় তিনি দুইবার পরিষদের সভাপতিত্ব করেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

নুসেইবেহর ঘোষিত লক্ষ্য হলো জাতিসংঘের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা পুনর্গঠন, সংঘাত প্রতিরোধে আগাম কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ তৈরি করা।

সুদানের সংঘাত নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে?

লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের একটি হলো সুদানের গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথিত ভূমিকা।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) মধ্যে সংঘাত চলছে। এ সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। RSF-এর বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষের ওপর নৃশংসতা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং মানবাধিকার গবেষকদের বক্তব্যে RSF-কে আমিরাতের কথিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুদানের এল-ফাশার শহরে RSF-এর হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

AP-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এল-ফাশারে RSF-এর ওই হামলায় অন্তত ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে। গবেষকদের কেউ কেউ ঘটনাটিতে গণহত্যার বৈশিষ্ট্য থাকার কথা বলেছেন।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমিরাত RSF-কে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।

মহাসচিব পদে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক

জাতিসংঘের মহাসচিবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখা, সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া এবং সংস্থার সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের নীতিগুলো সমুন্নত রাখা।

সমালোচকদের একটি অংশের প্রশ্ন, সুদানের সংঘাত নিয়ে আমিরাতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দেশটির সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধির পক্ষে ভবিষ্যতে সব পক্ষের কাছে নিরপেক্ষ আস্থা অর্জন করা কতটা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, নুসেইবেহর সমর্থকেরা তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ এবং আন্তর্জাতিক সমঝোতা তৈরির সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি জাতিসংঘকে কেবল সংকট পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কার্যকরভাবে সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখা একটি সংস্থা হিসেবে শক্তিশালী করতে চান।

এ পর্যায়ে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোকে বিতর্ক ও মূল্যায়নের বিষয় হিসেবেই দেখা উচিত; এগুলোকে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

ছয় উপসাগরীয় দেশের সমর্থন

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (GCC) ছয় সদস্যদেশ লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতার প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন জানিয়েছে। ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংস্থাটির মহাসচিব এ সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।

এই সমর্থন তাঁর প্রার্থিতাকে আঞ্চলিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে। তবে শুধু আঞ্চলিক সমর্থন পেলেই জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত নয়।

জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করে এবং সাধারণ পরিষদ তাঁকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের—ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও বৃহৎ শক্তিগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা

জাতিসংঘের প্রায় আট দশকের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেননি। নুসেইবেহ নির্বাচিত হলে তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী মহাসচিব হবেন। একই সঙ্গে তিনি হবেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে নির্বাচিত দ্বিতীয় মহাসচিব।

তবে তাঁর সামনে অন্যান্য প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সমর্থন অর্জনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই তাঁর প্রার্থিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নির্বাচনের ফলাফল এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের সময় নির্ধারিত হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

নতুন মহাসচিবকে যুদ্ধ ও সংঘাত, মানবিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতা তাই কেবল একজন কূটনীতিকের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নয়; একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আস্থা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ।

SKN আন্তর্জাতিক ডেস্কের পর্যবেক্ষণ: জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। প্রার্থীদের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, সংঘাত নিরসন এবং নিরপেক্ষতা রক্ষার সক্ষমতা সম্পর্কে স্বচ্ছ আলোচনা থাকা জরুরি। সুদানের সংঘাত নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশনা: SKN Television
স্লোগান: সত্য কথায় অঙ্গীকারবদ্ধ আমরা
ওয়েবসাইট: SKNTV.News


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


FACEBOOK