ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | দৈনিক সময়ের কণ্ঠ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইকরতলী গ্রামে মো. রহমত আলী ভূঁইয়াকে ঘিরে মাদক কারবারের নতুন অভিযোগ উঠেছে। গোপন সূত্রের দাবি, বর্তমানে ভারতীয় ওষুধের দোকানকে কেন্দ্র করে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওই সূত্র আরও অভিযোগ করেছে, দোকানের আড়ালে মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবার ও স্বজনদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
গোপন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রহমত আলী ভূঁইয়ার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও তাঁর চাচার বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রটি তাঁর বাবার বিরুদ্ধেও অতীতে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো হাতে আসেনি। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
পুরোনো মামলার তথ্য ধরে অনুসন্ধান
২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত কালবেলার একটি প্রতিবেদনে বিজয়নগরের ইকরতলী গ্রামের রহমত আলী ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে ১৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর তাঁকে আটকের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।
তবে পুরোনো মামলার তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযোগগুলো সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা রয়েছে কি না, কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা আছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি
ভারতীয় ওষুধের দোকানটির প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নথিপত্র এবং মাদক কারবারের অভিযোগের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সূত্রটি।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রহমত আলী ভূঁইয়া ও অভিযোগে নাম আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হবে।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ এবং সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়ার পর পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।