নিজস্ব প্রতিবেদক |বাংলাদেশ থেকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ফের পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে বাঞ্ছারামপুর থানার আওতাধীন একটি ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাঞ্ছারামপুর থানার এসআই কুদ্দুস, কনস্টেবল নূর আলী ও কনস্টেবল শফিকুল।
ভুক্তভোগী আনিসুর রহমানের অভিযোগ, ব্রিজের ওপর তাকে থামিয়ে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেওয়া হয়। এরপর তার কাছে মাদক আছে কি না জানতে চাওয়া হয় এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ পরীক্ষা করা হয়। তার দাবি, কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ব্যাগে থাকা আড়াই লাখ টাকা পুলিশের সদস্যদের নজরে আসে।
অভিযোগকারী আরও জানান, ঘটনার সময় কনস্টেবল নূর আলী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিওতে ব্যাগের টাকা দেখা যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে তার দাবি। পরে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
ওসিকে জানানো হলেও সমাধান মেলেনি?
ঘটনার পর আনিসুর রহমান বিষয়টি বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান বলে দাবি করেছেন। পরে দৈনিক সময়ের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক মুঠোফোনে ওসির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।
ওসি জানান, তিনি সংশ্লিষ্টদের ডেকে এনেছেন। তবে তারা এ ধরনের কোনো কাজ করেনি বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগকারী আনিসুর রহমান তার বক্তব্যে অটল রয়েছেন। ফলে এখন মূল প্রশ্ন—ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং ঘটনাস্থলের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হয়েছে কি না?
ভিডিও ফুটেজে কী আছে?
অভিযোগকারীর দাবি, কনস্টেবল নূর আলী প্রথমে তাদের ভিডিও করেন এবং তাদের কাছে মাদক আছে কি না জানতে চান। মাদক না পাওয়ার পর ব্যাগে থাকা টাকা ভিডিওতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে ভিডিওর কোনো অংশ কাটা বা সরানো হয়েছে কি না—এ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তাই ঘটনার মূল ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হতে পারে।
একই ব্রিজে আগেও ৫–৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই ব্রিজের ওপর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ব্যক্তিদের থামিয়ে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
তবে আগের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি। একই স্থানে এ ধরনের অভিযোগ বারবার ওঠায় বিষয়টি নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা
বর্তমান ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—
ভুক্তভোগীর কাছে মাদক পাওয়া না গেলে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ কেন উঠল?
ভিডিওতে টাকা দেখা যাওয়ার পর সেই টাকা কোথায় গেল?
ভিডিওর কোনো অংশ সম্পাদনা বা কাটা হয়েছিল কি না?
ঘটনার সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন?
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভুক্তভোগী ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত সত্য কী?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী আনিসুর রহমানের অভিযোগ সত্য হলে পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। আবার অভিযোগটি সত্য না হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এসআই কুদ্দুস, কনস্টেবল নূর আলী ও কনস্টেবল শফিকুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।