এসকেএন ডেস্ক |
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের শহর ছাড়ার এবং ইউক্রেনে নতুন করে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর রাশিয়ার বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবে রুশ সেনারা কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা অব্যাহত থাকবে।
কূটনীতিকদের জন্য রাশিয়ার সতর্কবার্তা
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের কিয়েভে অবস্থান না করার এবং ইউক্রেনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আগেও এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু অনেক বিদেশি কর্মকর্তা ও কূটনীতিক এখনো কিয়েভে অবস্থান করছেন। যারা সতর্কতা উপেক্ষা করবেন, তাদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের নিজেদের ওপর থাকবে বলেও মস্কো জানিয়েছে।
কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা
রাশিয়ার নতুন সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে কিয়েভের নর্দার্ন ব্রিজে ড্রোন হামলা হয়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকোর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত দুইজন আহত হন এবং সেতুর সড়কপথ ও ট্রলিবাসের বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এর আগে কিয়েভের অন্য সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় শহরের যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে।
শুধু কিয়েভ নয়, অন্যান্য শহরেও হামলা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভের পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্যান্য শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের খারকিভ ও ইজিয়ুমে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, এসব হামলা ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং ইউক্রেনীয় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়ার হামলার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরছে। দুই পক্ষই বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে।
ইউক্রেনের পাল্টা হামলাও অব্যাহত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এই পর্যায়ে দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হতাহত এবং বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর রয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষ্ণসাগরেও উত্তেজনা বেড়েছে। উভয় পক্ষের সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশি দূতাবাস কি কিয়েভ ছাড়ছে?
কিয়েভে বিদেশি দূতাবাসগুলো সম্ভাব্যভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে—এমন খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো বিদেশি দূতাবাস তাদের কাছে কিয়েভ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
তবে যুক্তরাজ্যের সরকারি ভ্রমণ পরামর্শে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকায় ভ্রমণ না করার সতর্কতা বহাল রয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নিয়মিত ঘটছে এবং বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ
কিয়েভে সাম্প্রতিক হামলার মাত্রা বাড়ায় সামনে শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শহরের প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবনেও হামলার প্রভাব পড়ছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি: মস্কোর সর্বশেষ ঘোষণা থেকে স্পষ্ট যে রাশিয়া কিয়েভে হামলার চাপ কমানোর পরিবর্তে তা অব্যাহত রাখার বার্তা দিচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে কিয়েভসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।