ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুসন্ধান রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পুরস্কৃত করার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন পুলিশ সুপারের দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এমন পুরস্কার প্রদানকে ঘিরে পুরস্কারের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও মানদণ্ড নিয়ে জানতে চাইছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পেশাগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর হাতে ‘জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি’র সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেলা পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সীমান্তবর্তী বিজয়নগর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের কারণে তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজয়নগর থানার পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সাফল্য দেখিয়েছে।
তবে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। বরং জনগণের প্রশ্ন হচ্ছে, শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সেই মূল্যায়ন কতটা স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য?
নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার বিভিন্ন থানার কার্যক্রম, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা তদন্ত, সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ, পুলিশি সেবা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সবকিছুর ওপর নজরদারি কতটা জোরদার হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি জনগণের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ, থানার সেবার মান, মামলা তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং পুলিশের আচরণ—এসব বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় থাকা প্রয়োজন।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে—নতুন এসপির দায়িত্বের শুরুতেই পুরস্কার বিতরণ কি শুধু নিয়মিত প্রশাসনিক স্বীকৃতি, নাকি এর পেছনে আরও বিস্তৃত কোনো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া রয়েছে?
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড, মূল্যায়নের তথ্য ও অন্যান্য থানার তুলনামূলক কার্যক্রম প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর আরও স্পষ্ট হতে পারে।
অনুসন্ধান চলমান