বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব ও অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারের ১২ মে ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশনা, প্রচারণা, সভা-সমাবেশসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। একই দিনে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিতের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
অভিযোগ উঠেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের একটি অংশ অতীতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এমনকি প্রেসক্লাবটি আওয়ামী লীগপন্থিদের প্রভাবে পরিচালিত বা তাদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল—এমন অভিযোগও স্থানীয় মহলে রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রতিষ্ঠাকালীন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে জাবেদ রহিম বিজন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লার নাম উল্লেখ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ, তখন কোনো সাংবাদিক সংগঠনের ভেতরে অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেটি যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না?
অভিযোগকারীরা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, অতীতের কর্মসূচি এবং সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের নামে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম, প্রভাব বিস্তার কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
তবে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধে মামলা হয়নি—এমন দাবি করার আগে সরকারি মামলা/এজাহার ও আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
অনুসন্ধান চলমান।