November 2, 2026, 4:58 pm
SCROLL:
অভাবের দিন থেকে ডলার-ইউরোর আলোচনা, প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নুরুল হক নুর: প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি মানহীন ঔষধ বাজারে রেখে রহস্যজনক নীরবতা ঔষধ প্রশাসনের আলমগীর হোসেন ও বায়োজেন ফার্মাসিউটিক্যালসের দুর্নীতির জালে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য পাঁচ মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়নি প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বাড়ছে চাপ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে উত্তাল গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অচল সড়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামায়াতের আমিরকে ঘিরে জমি ও কোটি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ। জমির মালিকানা, তিতাস টাওয়ারের আর্থিক লেনদেন ও নির্বাচনী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি টাকার হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: বিএলআরআইয়ের পিডি সাজেদুলকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ, মিরপুর থানায় জিডি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে ঘিরে সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিক ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, বাড়ছে উদ্বেগ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহত অন্তত ৬৮ যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান

বাংলাদেশে তেলের দাম কম ছিল, পাচারের ঝুঁকি ঠেকাতে বেড়েছে দাম: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম কম থাকায় চোরাচালানের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজভাড়া ও বিমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এসব কারণে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানির দাম সমন্বয় না করায় বিপিসিকে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দাম সমন্বয় না করে আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার শুরুতে জ্বালানির দাম সমন্বয় না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় লোকসান আর বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তার ভাষায়, সরকার এমন একটি অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চায়নি, কিন্তু বিকল্পও ছিল না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৭০ টাকা হলেও দাম সমন্বয়ের আগে বাংলাদেশে তা ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৫৫ টাকা ঘাটতি বিপিসিকে বহন করতে হচ্ছিল।

সর্বশেষ দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসিকে প্রায় ১৫ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দাম সমন্বয় না করা হলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান বা ভর্তুকির প্রয়োজন হতো। সব ধরনের জ্বালানি মিলিয়ে এ পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারত।

এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি অব্যাহত রাখলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চাপ তৈরি হতে পারে বলেও জানান তিনি। তার মতে, জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হলে প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের ভাতা, নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মতো খাতে ব্যয়ের ওপর চাপ পড়তে পারে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা ৩৮ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা।

বাংলাদেশে কম দামে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় সীমান্তপথে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে আমদানি করা জ্বালানি প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

তিনি বলেন, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের উদ্দেশ্য শুধু বিপিসির আর্থিক লোকসান কমানো নয়, জ্বালানি পাচারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানোও। একই সঙ্গে জ্বালানিতে ভর্তুকির ব্যয় এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও জরুরি জনসেবায় সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজন ছিল।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর পেছনে সরকারের বিবেচিত পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


FACEBOOK