নিজস্ব প্রতিবেদক |
প্রথম পাঠে প্রকাশিত অভিযোগের পর নতুন করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ফারিয়া হুদা এবং তার স্বামী আব্দুল আল মামুনকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, আব্দুল আল মামুন পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ফারিয়া হুদা ব্যাংকিং পেশায় কর্মরত। স্বামী-স্ত্রী দুজনের দায়িত্ব ও আর্থিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো পৃথকভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
আরও অভিযোগ করা হচ্ছে, ফারিয়া হুদা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি মহলের, বিশেষ করে তৎকালীন/সংশ্লিষ্ট সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্যের আশীর্বাদ বা প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি আদেশ বা নথি দৈনিক সময়ের কণ্ঠের হাতে এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নথিভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।
ফোনে বক্তব্য নিতে গিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার দাবি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে দৈনিক সময়ের কণ্ঠের পক্ষ থেকে ফারিয়া হুদার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দাওয়াত ও ব্যক্তিগত সৌজন্যমূলক কথোপকথনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তবে কথোপকথনের পূর্ণ রেকর্ড ও প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠ মনে করে, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যাংক কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা প্রভাবের বিষয় নয়—প্রকৃত তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতেই বিষয়টি যাচাই হওয়া উচিত।
নামে-বেনামে অর্থ ও সম্পদের অভিযোগ
অনুসন্ধানে আরও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে—স্বামী-স্ত্রীর নামে অথবা বেনামে বিভিন্ন স্থানে অর্থ ও সম্পদ থাকার দাবি করছেন কয়েকজন অভিযোগকারী। জমি, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তবে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস কিংবা কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এ মুহূর্তে তা প্রমাণিত নয়। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুদকের অনুসন্ধানের দাবি
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি দায়িত্ব, ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড, স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক লেনদেন এবং নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
দৈনিক সময়ের কণ্ঠের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তী পর্বে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, দায়িত্ব ও বদলি-সংক্রান্ত তথ্য, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
চোখ রাখুন—দৈনিক সময়ের কণ্ঠ।