রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আগামী ২৯ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠান করার ঘোষণাকে ঘিরে সাংবাদিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটির পরিচয়, কার্যক্রম, নিবন্ধন এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি প্রচারিত একটি আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ২৯ আগস্ট জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির একজন উপদেষ্টার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ‘আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট’ নামে সংগঠনটির আইনগত অবস্থান, নিবন্ধন এবং সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করার বৈধ কর্তৃত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে রয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘প্রেস ক্লাব’ শব্দটি ব্যবহার করে কোনো সংগঠন সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করছে—এমন ধারণা তৈরি করা হলেও বাস্তবে সংগঠনটির কার্যক্রম, সদস্য নির্বাচন, সাংগঠনিক কাঠামো এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে পদ-পদবি প্রদান বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে যদি আর্থিক লেনদেন কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা তদন্ত করা উচিত।
সাংবাদিকদের পরিচয় ও পেশাগত মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। কোনো সংগঠন নিজেকে ‘আন্তর্জাতিক’, ‘প্রেস ক্লাব’ কিংবা ‘সাংবাদিক সংগঠন’ হিসেবে পরিচয় দিলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠন হয়ে যায় না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিবন্ধন, ট্রাস্ট ডিড, সাংগঠনিক অনুমোদন, সদস্য তালিকা এবং আর্থিক কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে ‘ভুয়া’ বা প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। তাই ২৯ আগস্টের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন ওঠা বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট’-এর দায়িত্বশীলদের বক্তব্যও প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকতার নামে কোনো সংগঠন যদি অনিবন্ধিতভাবে পদ-পদবি বাণিজ্য, পরিচয় ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া কিংবা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার কাজে জড়িত থাকে, তাহলে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর সংগঠনটি বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হলে তাদের নিবন্ধন ও কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষায় প্রকৃত সাংবাদিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।