বাঞ্ছারামপুরে পুলিশ পরিচয়দানকারী এক কনস্টেবল, এক এসআই ও এক সিএনজি চালককে ঘিরে সাধারণ মানুষকে মাদকের মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে ‘সময়ের অনুসন্ধান’।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাঞ্ছারামপুরে যাওয়ার পথে দুর্গারামপুর ব্রিজের গোড়ায় বিদেশযাত্রার প্রস্তুতিতে থাকা দুই যাত্রীকে থামানো হয়। তাদের মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ সময় ধরে দর-কষাকষির পর প্রায় চার ঘণ্টা পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই তিন ব্যক্তি নিজেদের বাঞ্ছারামপুর থানার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেন। তাদের মধ্যে একজন কনস্টেবল, একজন এসআই এবং একজন সিএনজি চালক ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে তাদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় সিএনজি চালক বাদলের নাম ও ছবি দিয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মহিন আলম জানিয়েছেন।
এদিকে বাদলকে নিয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর থানার তদন্ত ওসি জানিয়েছেন, বাদলকে নিয়ে অনুসন্ধান/অভিযান চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্ত ওসির বক্তব্যের বিস্তারিত রেকর্ড বা লিখিত প্রমাণ এখনো প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে প্রায়ই একই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। কখনো সাধারণ মানুষকে মাদক ব্যবসায়ী বা মাদক বহনকারী হিসেবে ভয় দেখিয়ে, আবার কখনো পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিরপরাধ মানুষকে মাদক মামলায় চালান করার ভয় দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন, কল রেকর্ড, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশ সদস্যদের ডিউটি রোস্টার যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে পাঁচ লাখ টাকা আদায়, পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং বাদলের ভূমিকা—এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নতুন কোনো তথ্য, নথি বা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ‘সময়ের অনুসন্ধান’-এর পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে তা প্রকাশ করা হবে।
— মহিন আলম
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা