শেকৃবি প্রতিনিধি:
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কবি নজরুল ইসলাম হলের একটি আবাসিক কক্ষে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কাঠামো পরিবর্তন করে এটাচড টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আহমেদুল কবির তাপসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হলের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, হলের ২০১ নম্বর কক্ষে দেয়াল ও কক্ষের কাঠামো পরিবর্তন করে এটাচড টয়লেট নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের কক্ষের মূল কাঠামো পরিবর্তন বা স্থায়ী কোনো নির্মাণকাজ করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কক্ষে চলমান নির্মাণকাজে সেই অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সুবিধা অনুযায়ী পরিবর্তন করার জায়গা নয়। একজন শিক্ষার্থীর জন্য যদি হলের কক্ষের কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্যরাও একই ধরনের সুবিধা দাবি করতে পারেন। এতে হলের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। হলের অবকাঠামো পরিবর্তন, নির্মাণকাজ এবং ব্যক্তিগত সুবিধার নামে অনুমোদনহীন সংস্কার যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে আবাসিক পরিবেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা কতটা নিশ্চিত থাকবে—এমন প্রশ্নও উঠেছে।
এদিকে হল প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইসলাম প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেছেন, তিনি এটাচড বাথরুম নির্মাণের বিষয়ে অবগত নন। তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী তাঁর হলের ছাত্র কি না জানতে চাইলে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি হলের ছাত্র এবং পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত জানাবেন।
এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নিয়ম যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংগঠনিক পদমর্যাদার কারণে নিয়ম প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে কি না।
তবে এটাচড টয়লেট নির্মাণের অভিযোগটি অনুমোদিত কি না, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বা ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য কী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হোক। অনুমতি ছাড়া নির্মাণকাজ হয়ে থাকলে তা বন্ধ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
প্রশ্ন এখন একটাই—বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কি ব্যক্তিগত সুবিধা তৈরির জায়গা, নাকি সবার জন্য সমান নিয়ম ও নিরাপত্তার আবাসিক প্রতিষ্ঠান?