বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসির বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন: প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব: শিক্ষা, ইংরেজি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্ব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে তানভীর কবিরের নতুন পথচলা চীনসহ এশিয়ায় স্বাস্থ্য সহযোগিতা জোরদারে ৪ অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি হুথিদের মাঝ আকাশে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দুপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বিজ্ঞপ্তি দৈনিক সময়ের কণ্ঠ পত্রিকার সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, সংবাদদাতা, প্রতিনিধি, শুভানুধ্যায়ী ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, পত্রিকার বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ের ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে বাড্ডায় মাদক কারবারের অভিযোগ: একাধিক স্পটে প্রকাশ্যে ব্যবসা, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ খিলগাঁও থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, একের পর এক অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ওসি

ক্ষমতার পালাবদলে ‘কুমিরের হাসি’? মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘিরে প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শাহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সালাহউদ্দিন আহমেদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এই রদবদলের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি প্রকল্প, মন্ত্রী-পরিবারের প্রভাব এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসছে। বিশেষ করে কয়েকটি বড় প্রকল্পে স্বজনদের সুবিধা পাওয়ার যে দাবি ছড়িয়েছে, সেগুলোর পক্ষে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার পরিবর্তে স্বচ্ছ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি উঠছে।

সমালোচকদের প্রশ্ন—একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রকল্প বণ্টনে স্বচ্ছতার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘিরে বড় প্রকল্প বা সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ উঠলে সেগুলোর জবাবদিহি হবে কীভাবে?

এদিকে বিভিন্ন মহলে আরও প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পেলে তার বিরুদ্ধে একই মানদণ্ডে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুন, ধর্ষণ, মাদক ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের কথা সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নিরাপত্তা। কোথাও ধর্ষণের অভিযোগ, কোথাও খুন, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ—এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা না হলে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগের সময়ের তুলনায় খুন ও ডাকাতিসহ কিছু অপরাধ কমেছে; একই সঙ্গে ধর্ষণের মামলা বৃদ্ধির ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।

তাই বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি পুলিশের মামলা, গ্রেপ্তার, তদন্ত ও আদালতের তথ্য প্রকাশ করাও জরুরি।

‘আসিফের লাইসেন্স চাওয়া’ বনাম প্রকল্পের প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনায় সাবেক বা বর্তমান সরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন বক্তব্য, সুযোগ-সুবিধা এবং প্রকল্প নিয়ে তুলনা টানা হচ্ছে। কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলছেন—একজনের বিরুদ্ধে সামান্য সুবিধা চাওয়ার অভিযোগেই যদি তীব্র সমালোচনা হয়, তাহলে বড় অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠলে একই প্রশ্ন কেন করা হবে না?

এখানেই মূল প্রশ্নটি হলো—ব্যক্তি নয়, নীতি কি সবার জন্য সমান হবে?

কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত হলেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হয়ে যায় না। আবার রাজনৈতিক প্রভাবশালী হলেই অভিযোগ তদন্তের বাইরে থাকবে—এমন ব্যবস্থাও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

‘আগস্ট চেতনা’ কি সবার জন্য একই?

জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও পরিবর্তনের পর দেশে জবাবদিহি, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেই প্রত্যাশা কি কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে, নাকি ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে?

নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রীদের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ শুধু প্রশাসন পরিচালনা নয়; বরং নিজেদের মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় আনুগত্য কিংবা ক্ষমতার নৈকট্য কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারবে না। একইভাবে কোনো অভিযোগও তদন্ত ছাড়া অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়।

এখন দেখার বিষয়, নতুন মন্ত্রীরা ‘ক্ষমতার হাসি’ নয়, জনগণের নিরাপত্তা ও জবাবদিহির বাস্তব পরিবর্তন কতটা নিশ্চিত করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এসকেএন টিভি চ্যানেল ফেসবুক